ভোক্তা পর্যায়ে আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। নভেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
সোমবার (২ নভেম্বর) নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। সংস্থাটির ঘোষণা অনুযায়ী, একই দিন রাত ৮টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে।
এক মাসের ব্যবধানে আবারও মূল্যবৃদ্ধি
https://www.youtube.com/live/VXJuxLaSrgw?si=-2IlC0j0HXNJQFdH
এর আগে অক্টোবর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তখন প্রতি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
এদিকে নতুন করে ২২৩ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের রান্নার খরচ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাড়ল অটোগ্যাসের দামও
শুধু বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি নয়, বাড়ানো হয়েছে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি এলপিজি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পর্যায়ের চার্জ ও কমিশনও পুনর্নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।
আমদানিকারকদের মজুদকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ, অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ, ১২ কেজিতে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে। ডিলারদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজারে আগে থেকেই অস্থিরতা
উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ দিকে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে আমদানিকারকদের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হতে থাকে এলপিজি সিলিন্ডার।
একপর্যায়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার কোথাও কোথাও ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
নতুন করে দাম বাড়ানোর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নার ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এখন ভোক্তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত দামে যেন বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায় এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করে।
