কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আবুল কাসেম কলেজে টানা তিন বছর ধরে এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর ২০২৬ সালেও কলেজটির পাসের হার শূন্য। তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট ১৫ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কলেজটির টানা তিন বছরের ফলাফলের এই চিত্র সামনে আসে। কলেজটি উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় অবস্থিত।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কলেজটির মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় সাতজন শিক্ষার্থী। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর আগে ২০২৫ সালে ছয়জন এবং ২০২৪ সালে দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ওই দুই বছরেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
ফলে গত তিন বছরে মোট ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। টানা তিন বছর শতভাগ অকৃতকার্যের এমন ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এমন ফলাফলে কলেজটির পাঠদান, শিক্ষক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরপর তিন বছর কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এর পেছনে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম, পাঠদানের মান কিংবা তদারকির কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
এ বিষয়ে আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক বিউটি বেগম বলেন, প্রতিষ্ঠানটির স্কুল ও কলেজ শাখার পৃথক কোড নম্বর ও ইআইআইএন রয়েছে। তিনি স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক। কলেজ শাখার বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাসেম ভালো বলতে পারবেন।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাসেমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোটরসাইকেলে থাকার কথা জানিয়ে ফলাফলের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার বলেন, “বিষয়টি আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
টানা তিন বছর শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, শিক্ষক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বার্তাবাহক ডেস্ক
