শ্রমিকের নূন্যতম মজুরি কাঠামো দাবীতে রাজপথে মিরপুরসহ প্রায় সারাদেশে আন্দোলন এটা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আমার।দেখেছি, শোনেছি,বলেছি,বলবো আর আন্দোলনের আগে বেতন বাড়ানো আর দেখলাম না।যাইহোক, সম্প্রীতি ইস্যুতে দেখলাম ত্রিশ হাজার টাকা বেতনের দাবীতে বিক্ষোভ করছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা।আন্দোলন থামাতে কূটকৌশল অবলম্বন করে ব্যর্থ সরকার পরে প্রশাসন দিয়ে লাঠি চার্জ, টিয়ারগ্যাসসহ নানা কৌশল অবলম্বন করেছে।আজ ২ নভেম্বর মজুরি বোর্ড তৈরি হয়েছে।তবে কথা হলো ন্যায মজুরি কেনো চেয়ে নিতে হবে?যেখানে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা! বর্তমান বাজারদর পরিস্থিতির যা অবস্থা সেই অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা সংসারে খরচা বেশি কিছু না।
সরকারী আমলা-কামলারা কোনো দাবী করলো না,তাদের বেতন বাড়িয়ে দিলেন ডাবল,যেখানে ঘুষ- দূর্নীতি করে যারা আঙ্গুল ফোলে কলাগাছ, কলাগাছ থেকে বটগাছে মোটাসোটা হয়ে যায়,সেখানে ৮-১০ ঘন্ট কাজ করে ত্রিশ হাজার টাকা বেতন দাবী আমি মনে করি যৌক্তিক। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন,সরকারের দায়িত্ব পালন করুন,তাদের মারধর করে এগিয়ে যেতে পারবেন না।
তৃতীয় কথায় আসি,সরকারী দলের কিছু সংগঠন প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও ভিডিও ফুট্রেজে দেখলাম লাঠি হাতে শ্রমিকদের দমনে মাঠে! এটা জাতি হিসেবে লজ্জার মনে করি,কারণ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এটা মোটেও কাম্য না।তারা দাবী করছেন বিরোধীদলের ইন্ধন ও আওয়ামী লীগের উস্কানীমূলক কর্মকাণ্ড, আপতত দৃষ্টিতে ধরে নিলাম তা সত্য,তবে প্রশাসন রেখে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আপনারা মাঠে কেনো থাকবেন?একটি যৌক্তিক দাবী আমিও সমর্থন করি এই জন্যই কি বলা চলে আমি সরকার বিরোধী? বিরোধী বলা সস্তা হয়ে গেলে সামনে হয়তো পাশে সমর্থন পাবেন না,সেটা মনে রাখা ভালো।
সমর্থন করা পাপ না,সমর্থন জানিয়ে মাঠে যাওয়াও পাপ না।তাই এটিকে বড় না করে সরকারের উচিত একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের চেষ্টা করা ও শ্রীগ্রই তা বাস্তবায়ন করা।না হলে বিরোধী দল ও আওয়ামী লীগ এটা তে রাজনৈতিক খাতিরে ইন্ধন দিবে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার: কারণ রাজনীতি বলে কথা,এ জায়গায় থাকলে বিএনপিও তাই করতো।
একটি পরিবারে মাসিক খরচ অনেক রকম,স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ রাজধানীতে থেকে গ্যাস,বিদ্যুৎ, চাউল-ডাল,তরিতরকারি ও শিক্ষা চিকিৎসা ইত্যাদি খরচাপাতি ৩০-৪০ হাজার টাকা নিম্নে প্রয়োজন। টানাটানি জীবনে কমপক্ষে ত্রিশ হাজার টাকা হলে হয়তো তাদের সংসার মোটামুটি চলতে পারে।প্রকারভেদে যদি চার-পাঁচ জন সদস্য থাকে সংসারে তাহলে তো বুজতেই পারেন।নিজের বেলায় ষোলো আনা আর অন্যের বেলায় বেহিসাব এটা বিকৃত মস্তিষ্কের লোকেদের দ্বারাই সম্ভব। দুই দিনের ভিতরে ভালো একটি সিদ্ধান্ত না জানালে দ্বিগুণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে বলে জানা যায় শ্রমিকরা।
মুহাম্মদ নূরে আলম | সম্পাদনা
